সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি উপহার বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি দেখা যায়। পাশাপাশি ব্যানারে জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের ছবিও ছিল।
জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ‘তোমার অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জন্মদিনকে মানুষের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রান্তিক কৃষকেরা সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের সংকটে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় তাদের মাঝে কৃষি উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ‘কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’—এই বিশ্বাস থেকেই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বাধা ও মামলার মধ্যেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জবি ছাত্রলীগের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিও ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।
জবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে প্রকৃতি, কৃষক ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে এ আয়োজন করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী নিশ্চিত করা, মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষি উপহার বিতরণের মাধ্যমে কৃষকের শ্রম ও অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী সাজবুল ইসলামসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত হলাম। আমরা তাদের কোথাও কোনো কর্মসূচি করতে দেব না।’ বিষয়টি প্রক্টর অফিসে জানানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কর্মসূচির বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।