মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
রমজানের কারণে এগিয়ে এলো অমর একুশে বইমেলা, শুরু হবে ৭ জানুয়ারি যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ: প্রধানমন্ত্রী দুর্গোৎসবে যশোর ও নড়াইলে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করল এসআরবি-৬ পদত্যাগের নির্দেশ সংক্রান্ত খবর ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’, ঞ্জনের মধ্যেই ইশরাকের বার্তা সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, ব্যাখ্যা চাইল বাংলাদেশ জয়পুরহাটে অটোভ্যান ছিনতাই ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ ৪ জন গ্রেফতার জবিস্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে জিসাদ-অনিক কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে যশোরের একই পরিবারের ৪ জন নিহত ভারতের গোয়ালিয়রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মন্দিরের ফটকে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১২ ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই অলআউট, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় হার টাইগারদের

কারাগার থেকে ক্যাম্পাস, জবি ছাত্রদলনেতা শাহরিয়ারের এক যুগের পথচলা

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ মোট ভিউ

রাজপথের আন্দোলন, একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবাস, রাজনৈতিক হামলার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ভর্তি জটিলতা ও আর্থিক সংকট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমস্যা, ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে পাশে থাকায় ‘ক্লিন ইমেজের মানবিক নেতা’ হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন।

জানা যায়, শাহরিয়ারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের শুরু ২০০৭ সালে আরশীনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। পরে তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর যুক্ত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় প্রত্যক্ষ ভোটে ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ১৮৭ ভোটের মধ্যে ১৫৯ ভোট পেয়ে সিআর নির্বাচিত হন তিনি। ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে একাধিকবার মারধরের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

২০২২ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৪ সালে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান শাহরিয়ার। ২০২৪ সালে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন ও সংঘর্ষের ঘটনাও রয়েছে তার পথচলায়।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশি হামলার শিকার হওয়ার কথা জানান তিনি। ২০১৩ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতেও বাবুবাজার এলাকায় পুলিশের হাতে নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা বলেন।

২০১৯ সালে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার কথাও জানান শাহরিয়ার। ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিতে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন তিনি। ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে পুলিশের হামলায়ও আহত হন।

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন শাহরিয়ার। ৮ ও ১০ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। ১১ জুলাই পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে শিক্ষার্থীদের মিছিল নিয়ে শাহবাগে যান। ১৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি এবং ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় হামলায় আহত হন।

আহত অবস্থায় ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি। ১৯ জুলাই কাকরাইলে ছাত্রদলের মিছিল এবং ২০ জুলাই কারফিউ ভেঙে মিছিলে অংশ নেওয়ার কথাও জানান শাহরিয়ার। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে অবস্থান এবং ৫ আগস্ট গণভবনের ফটকে প্রবেশকারী প্রথম ২০ জনের একজন হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যক্তিগতভাবে কাজ শুরু করেন শাহরিয়ার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। ওই কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় আহত হন।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক সংকটেও তার সক্রিয় সহযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ১৫তম মেধাস্থান অর্জন করেও অর্থের অভাবে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা আজহারুল ইসলামের ভর্তির দায়িত্ব নেন শাহরিয়ার। তার সহযোগিতায় আজহারুলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে ২০২৬ সালের মার্চে একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আজহারুল ইসলাম বলেন, “শাহরিয়ার ভাই পাশে না দাঁড়ালে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন আমার পূরণ হতো না। এজন্য আমি শাহরিয়ার ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। ভাইয়ের ভবিষ্যৎ সফলতা কামনা করি।”

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম শেখের ভর্তি ব্যয় এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাব্বির ভর্তি ফরম পূরণেও সহযোগিতা করেন শাহরিয়ার। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক ব্যবসায়িক প্রতারণার শিকার হয়ে মূলধন হারানোর মুখে পড়লে তার ছোট ব্যবসায়ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছোটন খান বলেন, “ভর্তি জটিলতা থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের পানির সংকট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের কাছে বলেও অনেক সময় দ্রুত সমাধান পাওয়া যায় না। শাহরিয়ার ভাই শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যায় ব্যক্তিগতভাবে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।”

ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত কিছু সমস্যার সমাধানেও ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছেন শাহরিয়ার। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কয়েকটি ডাস্টবিন সংস্কার ও মেরামত, ভাষাশহীদ রফিক ভবনে পানির ফিল্টার স্থাপন এবং বিবিএ ভবনের লিফটে ফ্যান স্থাপনের উদ্যোগ নেন তিনি। এর আগে শহীদ সাজিদ ভবনের লিফটেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফ্যান বসানোর ব্যবস্থা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালে অভুক্ত কুকুরের খাবারের ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের পাশে পানের দোকান চালানো পিতৃহীন শিশু সাদ্দামের পরিবারের পাশেও দাঁড়ান তিনি। চলতি বছরের রমজানে পুরান ঢাকার ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে সেহরি বিতরণের উদ্যোগও নেন।

রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনা ও গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন শাহরিয়ার। ২০০৮ সালে চরকুমারিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

২০২০ সালে সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। তবে সে সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সেই সুযোগ ছেড়ে দেন। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এমফিল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার। ‘Women Access to Information in Bangladesh: A Study on Union Digital Center’ শিরোনামে গবেষণা করছেন তিনি। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা নিয়ে এ গবেষণার কাজ করছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা সম্পর্কে শাহরিয়ার বলেন, “দুঃসময়ে দলের জন্য নিঃস্বার্থে নিজের অবদান রেখেছি এবং ভবিষ্যতে এই ধারা দলের প্রতিটি ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের সমস্যা হলে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো একজন ছাত্রনেতার দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থী যখন কোনো সংকটে পড়েন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোও একজন ছাত্রনেতার দায়িত্ব। আমি চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের সময় তাঁদের পাশে থাকতে।”

রাজনীতির মাঠে আন্দোলন, হামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাসের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও একাডেমিক সংকটে সহযোগিতা এবং গবেষণার কাজকে নিজের রাজনৈতিক পথচলার অংশ হিসেবেই দেখছেন শাহরিয়ার।

একদিকে রাজপথের আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংকটে ব্যক্তিগতভাবে পাশে থাকা এবং গবেষণায় যুক্ত থাকা, এই দুই ধারাতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে চান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এই নেতা।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital