মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
রমজানের কারণে এগিয়ে এলো অমর একুশে বইমেলা, শুরু হবে ৭ জানুয়ারি যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ: প্রধানমন্ত্রী দুর্গোৎসবে যশোর ও নড়াইলে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করল এসআরবি-৬ পদত্যাগের নির্দেশ সংক্রান্ত খবর ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’, ঞ্জনের মধ্যেই ইশরাকের বার্তা সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, ব্যাখ্যা চাইল বাংলাদেশ জয়পুরহাটে অটোভ্যান ছিনতাই ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ ৪ জন গ্রেফতার জবিস্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে জিসাদ-অনিক কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে যশোরের একই পরিবারের ৪ জন নিহত ভারতের গোয়ালিয়রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মন্দিরের ফটকে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১২ ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই অলআউট, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় হার টাইগারদের

বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ বিক্রি, ‘সরকারি কোষাগার’ এড়াতে অদ্ভূত যুক্তি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৫ মোট ভিউ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০টি মেহগনি ও ৪টি নারিকেল গাছসহ মোট ১৪টি সরকারি গাছ দরপত্র (টেন্ডার) ও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি দেখানো হলেও এসব গাছের বাজারমূল্য আরও অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
​সরকারি কোষাগারে টাকা জমা হওয়া এড়াতে এবং হাসপাতালের মসজিদ সংস্কারের দোহাই দিয়ে টেন্ডার ছাড়া গাছ বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
​সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের পূর্বপাড়ে মসজিদ সংলগ্ন বাগানে শ্রমিকরা কেটে ফেলা মেহগনি ও নারিকেল গাছগুলো স্বমিলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছেন।
​গাছের ক্রেতা বানারীপাড়ার রায়েরহাটের স্বমিল মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ১০টি মেহগনি ও ৪টি নারিকেল গাছ ক্রয় করেছি। গত তিন দিন ধরে গাছগুলো কেটে নিচ্ছি।”
​”কোষাগারে জমা এড়াতে” টেন্ডার ছাড়া বিক্রি
​হাসপাতালের অফিস সহকারী শাওন দাবি করেন, মসজিদের দোতলার কাজের জন্য ইউএনও ও বন কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই গাছ বিক্রি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

বানারীপাড়ায় খাদ্যবান্ধব তালিকায় বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী স্ত্রীর নাম

 

​তবে টেন্ডার ছাড়া গাছ বিক্রির কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল আজিজ। তিনি বলেন:
​”টেন্ডার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া টেন্ডার দিলে তো গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যেত। এসব কারণে মসজিদ সংস্কারের জন্য টেন্ডার ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত আছেন।”
​গাছ বিক্রির অনুমতি অস্বীকার প্রশাসনের
​স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ।
​উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. তাহেরুল ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মূল্য নির্ধারণ করা হলেও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রির কোনো আইনি সুযোগ নেই।”
​বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, “মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ কাটা ও বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমাকে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কাটার কথা বলেছিলেন। তাকে গাছ কাটা বা বিক্রির কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
​তদন্ত ও শাস্তির আশ্বাস
​সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম জানান, সরকারি সম্পদ বিক্রির নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটা স্পষ্টত অপরাধ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital