মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
রমজানের কারণে এগিয়ে এলো অমর একুশে বইমেলা, শুরু হবে ৭ জানুয়ারি যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ: প্রধানমন্ত্রী দুর্গোৎসবে যশোর ও নড়াইলে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করল এসআরবি-৬ পদত্যাগের নির্দেশ সংক্রান্ত খবর ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’, ঞ্জনের মধ্যেই ইশরাকের বার্তা সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, ব্যাখ্যা চাইল বাংলাদেশ জয়পুরহাটে অটোভ্যান ছিনতাই ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ ৪ জন গ্রেফতার জবিস্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে জিসাদ-অনিক কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে যশোরের একই পরিবারের ৪ জন নিহত ভারতের গোয়ালিয়রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মন্দিরের ফটকে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১২ ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই অলআউট, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় হার টাইগারদের

জবি ভিসির পিএসের বিরুদ্ধে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

জবি প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৪ মোট ভিউ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুহাম্মদ রাশেদ কাজীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বক্তব্য নেওয়া কিংবা প্রশাসনিক বিষয়ে যোগাযোগের জন্য অনেক সময় পিএসের মাধ্যমে সময় নিতে হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সাক্ষাৎ বা বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় না। কয়েকজনের অভিযোগ, সময় চাইলে কয়েক দিন পরের সিডিউল দেওয়া হলেও দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কিছু শিক্ষার্থী অপেক্ষা ছাড়াই উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

বক্তব্য নিতে গিয়ে কয়েক দিন অপেক্ষা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জবি ক্যাম্পাস সাংবাদিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে দ্রুত উপাচার্যের বক্তব্য প্রয়োজন হলেও অনেক সময় পিএসের মাধ্যমে সময় নিতে গিয়ে বিলম্ব হয়। এতে সময়মতো সংবাদ প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, উপাচার্যের বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারের জন্য সিডিউল চাইলে অনেক সময় পাঁচ থেকে সাত দিন পরের সময় দেওয়া হয়। এমনকি নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও অভিযোগ

শুধু সাংবাদিক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সামাজিক সংগঠনের এক শিক্ষার্থী বলেন, একটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন তারা। সময় চাইলে কয়েক দিন পরের সিডিউল দেওয়া হয়। তবে তাদের পরে এসেও কয়েকজন ছাত্রনেতা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া পিএস মুহাম্মদ রাশেদ কাজী মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনকে তাঁর বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জকসু প্রতিনিধিদের অভিযোগ

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিরাও অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর হল সংসদের সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ভিসির সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিদের অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কেউ গেলে অপেক্ষা ছাড়াই সাক্ষাতের সুযোগ পান—এমন অভিজ্ঞতা তাদের হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও পিএসের আচরণ নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। প্রশাসনের কাছে সবার সঙ্গে সমান ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফাতেমা তুজ জোহারার ওই পোস্টের মন্তব্যে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিহাদও অভিযোগ করেন। তিনি জানান, বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পিএসের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি।

তিনি আরও দাবি করেন, বিভাগের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে আসার কথা বলার পর সিডিউলের জন্য আবেদন রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

শিক্ষকদেরও অস্বস্তি

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ ও সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা তৈরি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। তাদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যোগাযোগ সহজ, স্বাভাবিক ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে পিএসের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের পিএস মুহাম্মদ রাশেদ কাজী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। অভিযোগের বিষয়ে আমি একটি কথাও বলতে চাই না।’

যা বলছে প্রশাসন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনার কাছ থেকেই মাত্র শুনলাম। এখন বিষয়টি আমার নলেজে এসেছে। আমি বিষয়টি দেখব।’

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital