বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানের ডজনখানেক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যে বার্তা দিলেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবার জন্য রাজনীতি করে বিএনপি সমকামিতার অভিযোগে ঢাবি ছাত্রসহ আটক ২ ঢাবির সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে ৬৪ জেলা ভ্রমণ, এবার স্বপ্ন ভারত-নেপাল-ভুটান চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেপ্তার ২৪ দেশের হাজারো চলচ্চিত্রকে পেছনে ফেলে তৃতীয় জবি শিক্ষার্থী প্রমির ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করার দাবি বর্জ্যজীবীদের ১৭ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান

চলতি বছর ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ মোট ভিউ

 

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা গেলে যেমন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তেমনি গড়ে উঠবে একটি সুশৃঙ্খল জাতি।

শনিবার (১১ জুলাই) মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচির অভাব রয়েছে। ফলে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণ হারাচ্ছে। অনেকেই আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন। এটি দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। ওই দুর্ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর ও নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরি হয়নি এবং প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটছে।

সংগঠনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও একজন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে। সুপারিশগুলো হলো—

১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা।
২. প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের সব গুরুত্বপূর্ণ পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং আঁকা এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।
৪. মহাসড়কসংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ‘রোড সেফটি গার্ড’ নিয়োগের মাধ্যমে লাল পতাকা ব্যবহার করে যানবাহন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা।
৫. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

শেয়ার করুন

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital