বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
জবি ছাত্রশক্তির আংশিক কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে শাহিন ও ফেরদৌস সাভারে মিনি কোল্ডস্টোরেজ পরিদর্শনে মার্কিন প্রতিনিধিদল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে একক বক্তৃতা ও সেমিনার ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে সিংড়ায় ছাত্রদলের দোয়া, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ জুলাই রাজপথের সেই দিনগুলো: জবি ছাত্রদলনেতা পরাগের জুলাই স্মৃতি শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল পোশাক শ্রমিকের চিকিৎসাসেবা চালুর দিন-তারিখ জানাল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল টানা ৫ দিন ভারি বর্ষণের আভাস বাউবি’র ট্রেজারার হলেন জবি অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য ড. নূর মহল আখতার বানু

হরিদাসের ব্যাংক লেনদেন বেরিয়ে আসছে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ২৩ মোট ভিউ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর হরিদাস চন্দ্র তরণীদাসের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে, যার উৎস ও প্রকৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে থাকাবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া টাকার উৎসের বিষয়ে যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি। যে কারণে তার টাকার বিষয়গুলো নিয়ে এক ধরনের রহস্য দেখা দিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক একসঙ্গে ৩০ লাখ টাকা হরিদাসের ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েছেন। কী কারণে, কোন উদ্দেশ্যে দিয়েছেন তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস প্রথম আলোচনায় আসেন পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামে শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির প্রাঙ্গণে ৮১ ফুট উচ্চতার শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে। এর আগে তার উদ্যোগে একই এলাকায় ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি এবং ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ করা হয়। পরে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও বড় স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ওই এলাকার জনসংখ্যাগত বাস্তবতা এবং প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একপর্যায়ে স্থানীয়দের একাংশের আন্দোলনের মুখে প্রশাসন গত জুনে নির্মাণকাজ স্থগিত করে।

আরও পড়ুন:

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত, জামায়াতের এমপি নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার

 

 

গত ১২ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে হরিদাস চন্দ্র তরণীদাসসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরদিন রাতে পলাশবাড়ীতে মন্দিরসংলগ্ন একটি রিসোর্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির একটি দল। পরে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে সিআইডি উল্লেখ করে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সময়ে হরিদাসের নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি এমএফএস অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা জমা হয়েছে। সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। সিআইডির দাবি, ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে বেনামে এ অর্থ সংগ্রহের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। লেনদেনগুলোর উৎস, প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং অর্থের ব্যবহার এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। হরিদাসের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলা, রাজধানীর বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণাসংক্রান্ত মামলা এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) আইনের ১৩৮ ধারার একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের ধরন মানি লন্ডারিংয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব লেনদেনের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা জানান, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। অর্থের প্রকৃত উৎস, সম্ভাব্য সহযোগী এবং লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

One thought on "হরিদাসের ব্যাংক লেনদেন বেরিয়ে আসছে রহস্য"

Comments are closed.

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital