ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের আয়োজনে একক বক্তৃতা ও গবেষণা প্রকল্প অগ্রগতি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার সকালে এই একক বক্তৃতা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একক বক্তৃতা ও সেমিনারে একক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি, নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।
জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আবদুল হাই শিকদার তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, “কবি নজরুলকে নিয়ে বিভিন্ন সময় গবেষণা হলেও তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ভুলভাবে গল্প বানানো হয়েছে। কবি নজরুল কখনো রুটির দোকানে বেলনা দিয়ে রুটি বানান নি। প্রকৃতপক্ষে কবি একটি বেকারীতে বনরুটি/পাউরুটি বানানোর কাজ করতেন। কবি নজরুলের সম্মোহন ক্ষমতা ছিল প্রখর। গান, কবিতা, খেলা সবকিছুতেই তিনি ছিলেন পারদর্শী। দারোগা রফিজউল্লাহ সেই প্রতিভাবান নজরুলকে ত্রিশালের এই মাটিতে নিয়ে এসেছিলেন। কবিকে ত্রিশাল নিয়ে আসায় রফিজউল্লাহ দারোগার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনকিছুর নামকরণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “দুধের সাথে সাদা যেমন আর দেহের সাথে রুহের যেমন সম্পর্ক ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সাথে নজরুলের সম্পর্ক। নজরুলের একেকটি শব্দ একেকটি যুদ্ধ ঘোষণা। এমন শব্দ আর কোন কবি ব্যবহার করতে পারেন নি। ঔপনিবেশিক ও অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিল কবির যুদ্ধ। স্বাধীনতার জন্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর মতো আর কোন কবি বলেন নি। কবি নজরুল ছিলেন গণমূখী সাংবাদিকতার জনক। তিনি কাউকে বড় করতে গিয়ে অপরকে কখনো ছোট করেন নি। কবি নজরুলের অবিসংবাদিতার কারণেই তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তিনি আমাদের আলোকবর্তিকা, তিনি একসাথে অনেক কাজ করতে পারেন। নজরুল চর্চা আমাদের আরও বাড়াতে হবে, তবেই আমরা অসাম্প্রদায়িক সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারবো।”
আরও পড়ুন
সভাপতির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “প্রত্যেক বাঙালির মনে নজরুল চেতনা অন্যন্য হিসেবে বিরাজমান। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন, স্থাপনা, গাড়ীসহ সবকিছুর নামকরণে কবি নজরুলের সৃষ্টিকর্ম অনুযায়ী রাখা হয়েছে। তবে নজরুলের চেতনা ধারণ করা আর জানার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নজরুলকে জানতে হলে নজরুলের সৃষ্টিকর্মের অন্তরে প্রবেশ করতে হবে। নজরুলকে জেনে তাঁর চেতনা ধারণ করে চলতে পারলে আমাদের সমাজ আরও সুন্দর হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নজরুলের প্রত্যেকটি সৃষ্টির শিরোনামই একেকটা পারমাণবিক বোমা। তাঁর সেই সৃষ্টিকর্মগুলো যদি বিভিন্ন ভাষায় ভাষান্তর করা হতো তাহলে তিনি নিশ্চয়ই নোবেল প্রাইজ পেতেন।”
একক বক্তৃতা ও সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সঞ্চালনা করেন ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)- এর অর্থায়নে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মোট ৩৮টি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী এবং নজরুল গবেষক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।