এর আগে সেন্সর সংক্রান্ত জটিলতায় একাধিকবার পিছিয়েছিল সিনেমাটির মুক্তি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ২৩ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে আসে এইচ বিনোথ পরিচালিত ছবিটি। মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাবেরী নদীর পানিবণ্টনকে কেন্দ্র করে কর্নাটকে উত্তেজনা বাড়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তামিল সিনেমার প্রদর্শনী নিয়ে আপত্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘জন নায়াগন’-এর শো বন্ধ করার দাবি ওঠে কয়েকটি এলাকায়। মাণ্ডিয়ার গুরু শ্রী থিয়েটারেও বিক্ষোভের পর সিনেমাটির নির্ধারিত শো বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহে ‘জন নায়াগন’-এর প্রদর্শনী স্থগিত রাখা হয়েছে। তামিল সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে কাবেরী জলবিরোধের উত্তেজনার সরাসরি যোগ রয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে।
অশান্তির আশঙ্কায় কয়েকটি এলাকায় বিজয়ের পোস্টার ও প্রচারমূলক ব্যানারও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। কৃষক ও কন্নড়পন্থী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কর্নাটক নিজেই পানির সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত রাজ্যের কৃষকদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এদিকে কাবেরী পানি বণ্টন নিয়ে দুই রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনও অব্যাহত রয়েছে। এই বিরোধের প্রভাব এখন বিনোদন অঙ্গনেও পড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
মুক্তির পর একাধিক বাধা পেরিয়ে এগোতে থাকা ‘জন নায়াগন’-এর জন্য নতুন এই পরিস্থিতি যে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলাই যায়। এখন কাবেরী জলবিরোধের জেরে কর্নাটকের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে শো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিজয়ের বিদায়ী সিনেমার ব্যবসায় এর কতটা প্রভাব পড়ে, সেটিই দেখার বিষয়।