কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ১২দিন পর বুধবার দুপুর তিনটায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়। দাফনের পূর্বে বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তাদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মানচিত্র দেখুন
এদিন সকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো মোহনপুর গ্রামে পৌঁছায়। সেখানে এক হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার কক্সবাজার হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতরা হলেন, ঢাকার গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশু কন্যা রুজাইনা ইনায়া ও সুনাইনা ইহানা।
পরিবারের একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন তুহিনের বাবা মতিয়ার রহমান। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া এই পিতা বলেন, কয়েক দিন আগে আনন্দের সঙ্গে কথা হলো, আর আজ আমার সব শেষ! বুকজুড়ে শুধু শূন্যতা, কাকে নিয়ে বাঁচব আমি?
তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স বিলাপ করতে করতে বলেন, এমন মৃত্যু যেন কারও কপালে না জোটে। আমাদের পুরো পরিবারটা চিরকালের জন্য তছরুপ হয়ে গেল।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে যান নাহিদুর রহমান। ১৮ অক্টোবর ভোরে ইনানীর ওই রিসোর্টে লাগা আকস্মিক আগুনে পুড়ে অঙ্গার হন তারা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ইতোমধ্যে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ।