সুন্দরবনে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করে রাখা পাঁচ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চালাতে গিয়ে বনদস্যুদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়েছে কোস্ট গার্ড। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, ছয়টি ফাঁকা কার্তুজ ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে দস্যুদের কাউকে আটক করা যায়নি।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের দাদা ভাই বাহিনীর সদস্যরা কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে—গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। কোস্ট গার্ডের কয়রা ও দোবেকী স্টেশনের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা অতর্কিতে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। একপর্যায়ে জিম্মি জেলেদের ফেলে দস্যুরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং জব্দ করা অস্ত্র ও কার্তুজের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সুন্দরবনের বনদস্যুদের নির্মূল ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। দস্যুমুক্ত সুন্দরবনহ গড়ে তুলতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।