বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
জবি ছাত্রশক্তির আংশিক কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে শাহিন ও ফেরদৌস সাভারে মিনি কোল্ডস্টোরেজ পরিদর্শনে মার্কিন প্রতিনিধিদল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে একক বক্তৃতা ও সেমিনার ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে সিংড়ায় ছাত্রদলের দোয়া, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ জুলাই রাজপথের সেই দিনগুলো: জবি ছাত্রদলনেতা পরাগের জুলাই স্মৃতি শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল পোশাক শ্রমিকের চিকিৎসাসেবা চালুর দিন-তারিখ জানাল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল টানা ৫ দিন ভারি বর্ষণের আভাস বাউবি’র ট্রেজারার হলেন জবি অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য ড. নূর মহল আখতার বানু

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৫১ মোট ভিউ

 

 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে পাঁচ কর্ম দিবসে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের এই রায় ঘোষণা হলো।

 

 

রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

 

মামলার সংক্ষিপ্ত রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছেন—যা রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এই অপরাধে সরাসরি সহায়তা করেছেন।

 

রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্টি জানিয়েছেন শিশু রামিসার বাবা। তবে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, স্বপ্না খাতুন তার স্বামী সোহেল রানার এই নৃশংস অপরাধের সহযোগী ছিলেন। ঘটনার সময় স্বামীকে থামানোর কোনো চেষ্টা না করে, উল্টো অপরাধ আড়াল করতে এবং স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছেন। সোহেলকে পালিয়ে যেতে ও মরদেহ গুম চেষ্টায় স্বপ্না সহযোগিতা করেছেন, এটা প্রামাণিত। সোহেল-স্বপ্নার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। আইন অনুযায়ী, অপরাধে এই ধরনের সহায়তা ও অংশীদারিত্বের কারণে তারা উভয়েই সমভাবে অপরাধী এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

 

আদালত বলেন, এটি একটি সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ। এই ঘৃণ্য অপরাধের যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। এমন ব্যক্তিদের হাত থেকে শিশুসহ কেউ নিরাপদ নয়।

 

রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্টি জানিয়েছেন শিশু রামিসার বাবা। তবে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে সকাল থেকেই এই রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। সকাল সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে দুই আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। বেলা ১১টার কিছু পর তাদের এজলাসে তোলা হয়।

 

গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা হয়।

 

হত্যাকাণ্ডের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন নিহত শিশুটির বাবা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষিত হলো।

শেয়ার করুন

One thought on "শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড"

Comments are closed.

আরো সংবাদ ...
কপিরাইটঃ ২০২৬ দৈনিক সংবাদ শিরোনাম এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Developed by Infix Digital