দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালু হলেও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারছে না জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (যমুনা সার কারখানা)। গ্যাস সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে বারবার বন্ধ হচ্ছে ইউরিয়া উৎপাদন। সর্বশেষ গত শুক্রবার গ্যাসের চাপ পেয়ে সার উৎপাদন শুরু করে। তবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মাত্র দুই দিনের মাথায় রোববার সকালে আবারও কারখানার ইউরিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফের বন্ধ রয়েছে সার উৎপাদন।
কারখানা সূত্র জানায়, গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল যমুনা সার কারখানা। দৈনিক এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কারখানাটির। বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বারবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে বিদেশ থেকে উচ্চ মূল্যে সার আমদানি করতে হচ্ছে।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক বলেন, গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে গ্যাস পাওয়ায় গত ৬ অক্টোবর উৎপাদন শুরু হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে দুই দিনের মাথায় ৮ অক্টোবর আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারিগরি ত্রুটি সমাধান করে গত শুক্রবার পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হয়। কিন্তু পেট্রোবাংলা ও তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় রোববার ভোর থেকে আবারও উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। গ্যাসের অভাবে পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে না পারলেও গত দুই দিনে অন্তত এক হাজার ৬০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়েছে।
কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু করা হবে।